1. admin@mhnews24.com : admin :
শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৫ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ভূরুঙ্গামারী চা আড্ডায় মুন্সীগঞ্জ থেকে তরুণী এনে গণধর্ষণ অভিযোগে গ্রেফতার ১ ভুট্টা ব্যবসায় ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার ১ নেত্রকোণা দুর্গাপুরে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে কৃষি কার্ড বিতরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষকের সেবায় নতুন উদ্যোগ, মনোহরদীতে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৬ নং ওর্য়াডে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান ​শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবি’র অভিযান ১২টি ভারতীয় চোরাই মোবাইল জব্দ কেশবপুরে সরকারি খাল দখলমুক্ত, কেটে দেওয়া হলো ঘেরের বেড়ি ‘ইত্যাদি’র জনপ্রিয় নানা-নাতি জুটি আজ স্মৃতির পাতায় ‘বড় কোনো পদ না পেলেও আক্ষেপ নেই’—হাসিমুখে যা বললেন লুৎফুজ্জামান বাবর সাতক্ষীরায় শুরু ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলা

বগুড়াতে হিজড়া সম্প্রদায়কে ঘিরে চাঁদাবাজির অভিযোগ ও জনভোগান্তি: বাস্তবতা, আইন ও করণীয়

  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২৩ বার পঠিত

মিরু হাসান, বগুড়া প্রতিনিধিঃ
বগুড়ার বিভিন্ন শহর, বাস টার্মিনাল, মহাসড়ক, বাজার ও জনবহুল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কিছু হিজড়া সদস্যের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক অর্থ আদায়, যাত্রী ও পথচারীদের হয়রানি এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠে আসছে। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে বগুড়াসহ বিভিন্ন জেলায় এ ধরনের অভিযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। তবে বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় অভিযোগগুলোর ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত ও সুনির্দিষ্ট তথ্য যাচাই গুরুত্বপূর্ণ।

বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বাসস্ট্যান্ড, ট্রাফিক সিগন্যাল, নবজাতকের বাড়ি কিংবা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে কিছু ব্যক্তি অর্থ দাবি করার অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান পরিচালনা করেছে। বাংলাদেশ পুলিশ অতীতে এ ধরনের জনভোগান্তির অভিযোগের প্রেক্ষিতে সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছিল, জনস্বার্থবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ড আইন অনুযায়ী দমন করা হবে।

অন্যদিকে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেশব্যাপী চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের কথা জানিয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনার কথাও প্রকাশ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরো হিজড়া সম্প্রদায়কে কোনো অভিযোগের সঙ্গে একীভূত করে দেখা উচিত নয়। কারণ বগুড়ার হিজড়া জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ সামাজিক বৈষম্য, কর্মসংস্থানের সংকট এবং দীর্ঘদিনের বঞ্চনার শিকার। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, হিজড়া জনগোষ্ঠীর অনেক সদস্যই বৈষম্য ও সহিংসতার শিকার হন এবং তাদের জন্য টেকসই কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বগুড়ার বিভিন্ন এলাকায় যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জোরপূর্বক অর্থ আদায়, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থাকে, তাহলে তা ব্যক্তি বা অপরাধী চক্রের দায় হিসেবে বিবেচনা করা উচিত—কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরাধীর পরিচয় নয়, অপরাধই হওয়া উচিত আইনের মূল বিবেচ্য বিষয়।

সচেতন মহলের দাবি, জনভোগান্তি দূর করতে একদিকে যেমন চাঁদাবাজি ও হয়রানির বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ প্রয়োজন, অন্যদিকে বগুড়ার হিজড়া জনগোষ্ঠীর জন্য শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির কার্যকর উদ্যোগও জরুরি। এতে যেমন সাধারণ মানুষ স্বস্তি পাবে, তেমনি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষও সম্মানজনক জীবনের সুযোগ পাবে।

বিশ্লেষকদের মতে, আইনের সমান প্রয়োগ, জনসচেতনতা এবং সামাজিক সহমর্মিতার সমন্বয়েই বগুড়ায় এই ধরনের সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব।##

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © 2026 MH News 24
Theme Customized By MH News 24