
মোঃ শিহাব উদ্দিন, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসকসহ জনবল কম থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ৩০০ শয্যার এ হাসপাতালে চিকিৎসকের ১৫০টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৫৩ জন। ফলে বহির্বিভাগে কোনো কোনো চিকিৎসককে দিনে ২০০ থেকে ২৫০ জন পর্যন্ত রোগী দেখতে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৪০ বছর আগে ১৯৮৬ সালে ২০০ শয্যার হাসপাতাল হিসেবে এর কার্যক্রম শুরু হয়। তখন চিকিৎসক ছিলেন ৫০ জন। পরে হাসপাতালটি ৩০০ শয্যায় উন্নীত হলেও চিকিৎসকের সংখ্যা প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়েনি। বর্তমানে ১৫০টি পদের বিপরীতে ৫৩ জন চিকিৎসক কর্মরত রয়েছেন।
হাসপাতালের ওপর রোগীর চাপও বেড়েছে। বিশেষ করে বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বহির্বিভাগে বর্তমানে ১৭ থেকে ১৮ জন চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করছেন। রোগীর চাপ অনুযায়ী মেডিসিনসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে চিকিৎসকদের অতিরিক্ত রোগী দেখতে হচ্ছে।
জরুরি বিভাগেও চাপ
হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রতিদিন প্রায় ৩৫০ থেকে ৪০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এর বিপরীতে দায়িত্ব পালন করছেন চারজন চিকিৎসক। এতে স্বাভাবিকভাবেই চিকিৎসকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ চক্ষু বিভাগ
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে হাসপাতালের চক্ষু বিভাগেও নিয়মিত সেবা ব্যাহত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রায় ১০ বছর ধরে বিভাগটিতে কোনো চক্ষু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। ফলে চোখের সমস্যা নিয়ে আসা রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে অন্যত্র যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ না থাকায় চক্ষু বিভাগের অস্ত্রোপচার কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে।
চিকিৎসা নিতে আসা সালেহা আক্তার বলেন, বাইরে চিকিৎসা করানোর খরচ বহন করা তাঁর পক্ষে কঠিন। হাসপাতালে চক্ষু বিশেষজ্ঞ না থাকায় তাঁকে চিকিৎসা না নিয়েই ফিরে যেতে হয়েছে।
মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগেও চিকিৎসক নেই
চিকিৎসক না থাকায় হাসপাতালের মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগেও নিয়মিত সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানা গেছে। এ ছাড়া প্যাথলজি, অর্থোপেডিক, গাইনি, মেডিসিন, সার্জারি ও জরুরি বিভাগেও প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসক কম রয়েছে।
রেডিওলজি বিভাগেও চিকিৎসক সংকট রয়েছে। হাসপাতালে এক্স-রে সেবা চালু থাকলেও রেডিওলজিস্ট না থাকায় নিয়মিত রিপোর্ট দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ফলে চিকিৎসকদের এক্স-রে ছবি দেখে রোগ নির্ণয় করতে হচ্ছে।
জনবল সংকটে আইসিইউ
হাসপাতালের আইসিইউ সেবাও দীর্ঘদিন ধরে কার্যকরভাবে চালু নেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ২০২০ সালে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সময় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এনে আইসিইউ চালু করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, প্রশিক্ষিত নার্স ও সহায়ক জনবল না থাকায় আইসিইউ সেবা ব্যাহত হচ্ছে।
হাসপাতালটিতে চিকিৎসকসহ প্রয়োজনীয় জনবল বাড়ানো হলে রোগীর চাপ সামলে চিকিৎসাসেবার পরিধি আরও বাড়ানো সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।