
“তুমি আজ কত দূরে”—এই মায়াময় উচ্চারণ যেন আজও হৃদয়ের গহীনে অনুরণিত হয়। একসময় চিঠি ছিল প্রেমের সবচেয়ে পবিত্র আশ্রয়, আবেগের গুরুগম্ভীর অথচ কোমল প্রকাশভঙ্গি। শব্দের ভাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে থাকত অনুচ্চারিত ভালোবাসা, বিরহের দীর্ঘশ্বাস আর মিলনের নীরব প্রতিশ্রুতি।
একসময় দূরের প্রিয়জনের সঙ্গে যোগাযোগের সবচেয়ে বিশ্বস্ত মাধ্যম ছিল চিঠি। কালজয়ী বাংলা গানের শিল্পী জগন্ময় মিত্র-এর ১৯৪৮ সালে রেকর্ড করা গান “চিঠি–তুমি আজ কত দূরে” সেই আবেগময় চিঠির স্মৃতিকেই নতুনভাবে জীবন্ত করেছিল।
চিঠির পাতায় মানুষ লিখত মনের অজস্র না বলা কথা—ভালবাসা, সুখ-দুঃখ, আবেগ আর অনুভূতির গল্প। উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত থাকত এক ধরনের অস্থির প্রতীক্ষা। কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য-ও তার লেখায় চিঠির এই আবেগময় দিক তুলে ধরেছেন।
কিন্তু প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশে ই-মেইল, ম্যাসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রসারে হারিয়ে যাচ্ছে কাগজ-কলমে লেখা চিঠির সেই আবেদন। ডাকপিয়নের সাইকেলের বেল, লাল রঙের চিঠির বাক্স—সবই এখন যেন অতীতের স্মৃতি।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার ছিন্নপত্র-এ চিঠিকে মানুষের সম্পর্কের এক অনন্য বন্ধন হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু আজ সেই চিঠি সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে কেবল আনুষ্ঠানিকতা ও দাপ্তরিক ব্যবহারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিকতার দ্রুত গতিতে মানুষ হারাচ্ছে9 ধৈর্য, কমে যাচ্ছে আবেগের প্রকাশ। ফলে চিঠি ধীরে ধীরে ইতিহাসের পাতায় স্থান নিচ্ছে। তবুও ভালবাসা আর আন্তরিকতার বার্তা পৌঁছে দিতে একটি চিঠির প্রয়োজনীয়তা আজও অস্বীকার করার উপায় নেই।