
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় এবং নেসলে বাংলাদেশ এর উদ্যোগে অদ্য ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ সকাল ১০.০০ টায় অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের সভাকক্ষে (১ কারওয়ান বাজার, টিসিবি ভবন-৮ম তম তলা) ‘নকল ও ভেজাল পণ্য প্রতিরোধ’ শীর্ষক কর্মশালা আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) জনাব মোঃ জহিরুল ইসলাম।
কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব সেবাস্টিন রেমা, পরিচালক (কার্যক্রম ও গবেষণাগার) জনাব আতিয়া সুলতানাসহ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়, ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয় ও ঢাকা জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং নেসলে বাংলাদেশ এর প্রতিনিধি দল।
কর্মশালার শুরুতেই নেসলে বাংলাদেশ এর কর্পোরেট কমিউনিকেশন ম্যানেজার জনাব তানজানিয়া তারিক স্বাগত বক্তব্যে নেসলে বাংলাদেশের কার্যক্রম সম্পর্কে সম্যক ধারণা প্রদান করেন। অত:পর অধিদপ্তরের পরিচালক (কার্যক্রম ও গবেষণাগার) জনাব আতিয়া সুলতানা কর্মশালা আয়োজনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, নকল ও ভেজাল পণ্য প্রতিরোধের মাধ্যমে কীভাবে ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত পণ্য নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সচেতনতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি করা জরুরি।
বিভিন্ন সময়ে প্রাপ্ত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নকল পণ্য শনাক্ত করার প্রয়োজন হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে আসল ও নকল পণ্যের মধ্যে পার্থক্য কীভাবে নির্ণয় করা সম্ভব—সে বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক ধারণা প্রদানের উদ্দেশ্যেই আজকের এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে বলে তিনি জানান। কর্মশালাটি অংশগ্রহণকারীদের জন্য ফলপ্রসূ ও কার্যকর হবে—এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
অত:পর কর্মশালায় নকল পণ্য শণাক্তকরণ বিষয়ে পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপনা করেন নেসলে বাংলাদেশ এর হেড অব রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স জনাব রিয়াসাদ জামান, লিগ্যাল ও কমপ্লায়ান্স ম্যানেজার জনাব ফয়সাল আহমেদ এবং কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্সের সিনিয়র ম্যানেজার জনাব এ. কে. এম. হাবিব হক। প্রেজেন্টেশনে নকল পণ্য বা Counterfeit Product কীভাবে শনাক্ত করা যায়, নকল ও আসল পণ্যের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়ের বিভিন্ন কৌশল এবং পণ্যের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়।
এ সময় অংশগ্রহণকারীদের হাতে-কলমে বিভিন্ন নমুনা প্রদর্শনের মাধ্যমে কোনগুলো নকল পণ্য এবং কোনগুলো আসল পণ্য—তা শনাক্ত করার পদ্ধতি বুঝিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি নেসলে বাংলাদেশের পণ্যের সাম্প্রতিক ডিজাইন, প্যাকেজিং, লেবেলিং ও অন্যান্য দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের ধারণা প্রদান করা হয়, যাতে বাজারে প্রচলিত নকল পণ্য সহজে শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
অনুষ্ঠানে নেসলে বাংলাদেশ-এর পরিচালক (বিপণন) জনাব ইকবাল মাহমুদ হোসেন উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ভোক্তাদের নিরাপদ ও গুণগতমানসম্পন্ন পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে নেসলে বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, অধিদপ্তরের বিভিন্ন তদারকি কার্যক্রম পরিচালনার সময় নেসলে বাংলাদেশের পণ্যের ক্রয় রসিদ যাচাই করা হলে পণ্যের উৎস ও বৈধতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সহজ হবে।
কোনো পণ্য নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে বিভ্রান্তি বা সন্দেহ সৃষ্টি হলে নেসলে বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহযোগিতা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। এছাড়া নকল পণ্য শনাক্তকরণে সহায়তার জন্য নেসলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পণ্যের বৈশিষ্ট্য ও শনাক্তকরণসংক্রান্ত তথ্যসমৃদ্ধ লিফলেট মাঠপর্যায়ের অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তাদের সরবরাহ করা হবে। তিনি অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নেসলে বাংলাদেশের কারখানা পরিদর্শনের জন্য আমন্ত্রণ জানান যার মাধ্যমে পণ্যের উৎপাদন প্রক্রিয়া, গুণগতমান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, প্যাকেজিং এবং আসল পণ্য শনাক্তকরণের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে কর্মকর্তারা সরাসরি ধারণা লাভ করতে পারবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কর্মশালায় জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) জনাব মোঃ জহিরুল ইসলাম বলেন, নকল ও ভেজাল পণ্য প্রতিরোধ এবং ভোক্তাদের নিরাপদ পণ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেসলে বাংলাদেশের সঙ্গে এ ধরনের পারস্পরিক মতবিনিময় ও সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য হলো ভোক্তার অধিকার সুরক্ষা করা এবং নিরাপদ ও মানসম্মত পণ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
তিনি বলেন, ভোক্তার অধিকার সংরক্ষণে আইন বাস্তবায়নের পাশাপাশি নকল ও ভেজাল পণ্যের বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে কাজ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারি প্রতিষ্ঠান, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী ও ভোক্তাসহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি ভোক্তাবান্ধব বাজার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
মহাপরিচালক বলেন, ভোক্তাকে পণ্যের সঠিক ও প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করা কোম্পানির দায়িত্ব; অন্যদিকে ভোক্তার অধিকার সুরক্ষা ও আইন বাস্তবায়ন করা সরকারের দায়িত্ব। পাশাপাশি ভোক্তারও নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। প্রত্যেকের নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার মাধ্যমে নকল ও ভেজাল পণ্যের বিস্তার রোধ করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, নকল ও ভেজালমুক্ত দেশ গড়ে তোলা এবং নিরাপদ পণ্য নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো একটি প্রতিষ্ঠান এককভাবে সফল হতে পারে না; বরং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করলে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন করা সম্ভব।
অত:পর কর্মশালায় নেসলে বাংলাদেশ-এর পরিচালক জনাব হোসনে আরা বলেন, ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ, মানসম্মত ও ভেজালমুক্ত পণ্য নিশ্চিত করাই সরকারি ও বেসরকারি উভয় প্রতিষ্ঠানের অভিন্ন লক্ষ্য। তিনি বলেন, নেসলে বাংলাদেশ সবসময় ভোক্তাদের সর্বোচ্চ মানের ও ভেজালমুক্ত পণ্য সরবরাহে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নকল ও ভেজাল পণ্য প্রতিরোধে অধিদপ্তর ও নেসলে বাংলাদেশের মধ্যে এ ধরনের পারস্পরিক সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও জোরদার হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পরিশেষে, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব সেবাস্টিন রেমা বলেন, আজকের আলোচনা ও মতবিনিময় থেকে নকল ও ভেজাল পণ্য শনাক্তকরণ এবং প্রতিরোধের বিষয়ে অনেক কিছু জানা ও বোঝার সুযোগ হয়েছে। তিনি বলেন, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে নকল ও ভেজাল পণ্যের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব। তিনি ভবিষ্যতে অধিদপ্তর ও নেসলে বাংলাদেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও যোগাযোগ আরও জোরদার করার আহ্বান জানান এবং ভোক্তাদের নিরাপদ পণ্য নিশ্চিতকরণে সম্মিলিতভাবে সুন্দর ও কার্যকরভাবে কার্যক্রম পরিচালনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
অতঃপর তিনি কর্মশালায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ এবং মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ প্রদানের জন্য উপস্থিত সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে কর্মশালার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।