
ফাওজুর রহমান সাবিত স্টাফ রিপোর্টার
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার রোস্তম আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা ও জেলা শিক্ষা অফিসের প্রজ্ঞাপন অমান্য করে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক ছাড়াই প্রশ্নপত্র তৈরি এবং অনিয়মের মাধ্যমে পাঠদানের ও পরীক্ষা নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রধান শিক্ষক মো. আতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে এই অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সম্প্রতি জেলা শিক্ষা অফিসারের কার্যালয় থেকে জারি করা এক নোটিশে (স্মারক নং- ৩৭.০২.৪৪০০.০১.০৩২.২৬.১৫৩, তারিখ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬ খ্রি.) স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছিল যে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী নিজ নিজ বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নিজেদের শিক্ষকদের দ্বারাই প্রণয়ন করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই অন্য কোনো উৎস বা গাইড ও নোট বই থেকে সংগৃহীত প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া যাবে না। এছাড়া প্রজ্ঞাপনে অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রতিষ্ঠানের নিজ শিক্ষকদের দ্বারা প্রণয়নের ওপর কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে এই নির্দেশ সম্পূর্ণভাবে অমান্য করে রোস্তম আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে স্ব-স্ব বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক দিয়ে প্রশ্ন তৈরি না করানোর অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক মো. আতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে। এমনকি সমাজবিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক দিয়ে ইংরেজি ক্লাস নেওয়ারও চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সমাজবিজ্ঞান শিক্ষক আনিচুর রহমানের সাথে কথা বললে তিনি জানান, তিনি মূলত সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষক, তবে প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে তাকে ইংরেজি ক্লাস নিতে হয়। অচলমান ইংরেজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এবং সাংবাদিকদের প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলার পরামর্শ দিয়ে এড়িয়ে যান। অপরদিকে, বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক শান্তনুকে নিজের দায়িত্বে ইংরেজি প্রশ্নপত্র প্রস্তুত করেছেন কি না—এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনিও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের এমন আচরণে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে প্রশ্ন প্রস্তুত করা হলে তারা এ বিষয়ে গণমাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে রাজি নন কেন? প্রধান শিক্ষক আতিয়ার রহমানের একক সিদ্ধান্তে কীভাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এসব নির্দেশনা ও প্রজ্ঞাপন বারবার লঙ্ঘিত হচ্ছে, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) গিয়াস উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আইনের বাইরে যাওয়ার কারো কোনো সুযোগ নেই। সাংবাদিকরা তথ্য দেওয়ায় তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি জেলা শিক্ষা অফিসারের সাথে কথা বলে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান।
সার্বিক বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা শিক্ষা অফিসার লুৎফর রহমান বলেন, মাঠপর্যায়ে কাজ করে তথ্য সংগ্রহ করায় তিনি সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানান। সব জায়গায় যাওয়া সম্ভব হয় না উল্লেখ করে তিনি জানান, যেহেতু সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে, তাই সশরীরে পরিদর্শনে গিয়ে তা যাচাই-বাছাই করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে এসব অনিয়মের বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মো. আতিয়ার রহমানের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি সাংবাদিকদের সাথে উগ্র আচরণ করেন। তিনিআমার কোনো ক্ষতি হবে না এবং সাংবাদিকরা আমার কিছু করতে পারবেন না।